দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের সম্ভাব্য হামলার হুমকির কারণে গত মাসে তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার সময় গোপনে বিমান বদল করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় তাকে একটি ক্যাটারিং ট্রাকের মাধ্যমে গোপনে অন্য একটি সামরিক বিমানে নেওয়া হয়েছিল বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে ট্রাম্পকে এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠতে দেখা গেলেও পরে একটি ক্যাটারিং ট্রাকের সহায়তায় তাকে অন্য একটি সামরিক বিমানে নেওয়া হয়। বিমানে থাকা সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মকর্তাও বিষয়টি জানতে পারেননি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্পকে বহনকারী বিমানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একটি বিশ্বাসযোগ্য ইরানি হুমকি শনাক্ত করা হয়েছিল। তবে হোয়াইট হাউস এখনো গোপন বিমান বদলের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
এর আগে আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ইরানের এক নম্বর লক্ষ্যবস্তু।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৮ জুলাই আঙ্কারা বিমানবন্দরে ট্রাম্পকে নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠতে দেখা যায়। তবে এরপর গোপনে তাকে অপেক্ষাকৃত ছোট সি-৩২এ সামরিক বিমানে নেওয়া হয়। বোয়িং ৭৫৭-এর পরিবর্তিত এই বিমানটি সাধারণত মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের যাতায়াতে ব্যবহৃত হয়।
ট্রাম্পকে বিমানের যে পাশ দিয়ে ওঠানো হয়েছিল, তার বিপরীত পাশে একটি ক্যাটারিং ট্রাককে বিমানের দরজার সমান উচ্চতায় তোলা হয়েছিল। ওই ট্রাকের মাধ্যমে তাকে সি-৩২এ বিমানে নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও আলাদাভাবে সিঁড়ি ব্যবহার করে ওই বিমানে ওঠেন, যাতে পুরো ঘটনাটি স্বাভাবিক মনে হয়।
এদিকে সাংবাদিকদের এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠিয়ে জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে বলা হয়। বিমানটিতে থাকা হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মকর্তাও জানতেন না যে ট্রাম্প আর ওই বিমানে নেই।
হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এক পুল প্রযোজক জানান, বিমান চলাকালে সাংবাদিকদের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একজন আলোকচিত্রী সাময়িকভাবে পর্দা তুললে তাকে দ্রুত তা নামিয়ে ফেলতে বলা হয় এবং জানানো হয়, নির্দেশটি এসেছে ট্রাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিক্রেট সার্ভিসের কাছ থেকে।
সাধারণত মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহনকারী যেকোনো বিমানের কল সাইন এয়ার ফোর্স ওয়ান হলেও ওই ঘটনায় ট্রাম্পকে বহনকারী সি-৩২এ বিমানটি রিচ ১৮ কল সাইন ব্যবহার করে। সাংবাদিকদের বহনকারী পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানটি এএফ১ কল সাইন ব্যবহার করতে থাকে, যাতে বিমান বদলের বিষয়টি গোপন রাখা যায়।
পরে ট্রাম্প সি-৩২এ বিমানে করে যুক্তরাজ্যে যান। সেখান থেকে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেন। এরপর ওয়াশিংটনে ফেরার সময় কাতারের উপহার দেওয়া নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার করেন তিনি। সি-৩২এ থেকে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে কীভাবে তাকে স্থানান্তর করা হয়েছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প ইরানের হুমকির কথা উল্লেখ করলেও গোপন বিমান বদলের বিষয়টি জানাননি। তুরস্ক থেকে ফেরার সময় সাংবাদিকদের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে বলা হয়েছিল কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিপজ্জনক ফ্লাইটে থাকার কারণে এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
ট্রাম্প আরও বলেন, তার জীবনের ওপর সব সময়ই হুমকি রয়েছে এবং ইরানের তালিকায় তিনি এক নম্বরে রয়েছেন। এমনকি সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তিনি মারা গেলে তারাও যেন পেশা পরিবর্তনের কথা ভাবেন।
হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চেউং বিমান বদলের প্রতিবেদন সরাসরি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেননি। তিনি বলেন, কাতারের দেওয়া নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান অত্যাধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থায় সজ্জিত এবং প্রেসিডেন্ট ও তার কর্মীদের সুরক্ষার জন্য তৈরি।
এর আগে সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ট্রাম্প বা তাকে বহনকারী বিমানে হামলার নির্দিষ্ট হুমকি সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দারা সতর্ক করেছিল। নিউইয়র্ক টাইমসও ন্যাটো সম্মেলন শেষে ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছিল এবং জানিয়েছিল, সিক্রেট সার্ভিস তাকে বিমান পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছিল।
এদিকে, কাতারের উপহার দেওয়া প্রায় ৪০ কোটি ডলারের বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানটিকে প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের উপযোগী করতে কয়েক মাস ধরে সংস্কার করা হচ্ছে। পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে আগত ক্ষেপণাস্ত্রকে অকার্যকর করার জন্য লেজার প্রযুক্তি রয়েছে বলে সিবিএস নিউজকে সূত্র জানিয়েছে। তবে কাতারের নতুন বিমানে একই ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান প্রেসিডেন্টের ভ্রমণের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ। তবে শরতে এতে আরও কিছু নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন করা হবে, যার জন্য প্রায় এক মাস সময় লাগবে।
এমএস/